Advertisement

উন্মেষ

ভালোবাসাময় তিনটি কবিতা || একরামুল হক


প্রেয়সীর অবয়ব

প্রেয়সী,
তুমি ঠিক ততটাই সু-উচ্চতা সম্পন্না নারী হয়ে উঠো,
যতটা উচ্চতার অধিকারিণী হলে আমার বুকের ডেবডেব শব্দটা
কান পেতে শুনতে বিন্দু মাত্র কাঠিন্যবোধ হবে না।
যখন এ বুকে মাথা রাখবে,
ঠিক তখনই তোমার অস্তিত্বের জানান পাবে,
অচিরেই বোধগম্য হবে,
এ কোঠরে তোমারই আলতো অধমাঙ্গ বিচরণ।

প্রেয়সী,
তোমার আঁখি যুগল হরিণীর ন্যায় টানা কাজল কালো,
যে নন্দিত আঁখিতে সদা টলমল করে রূপালী ঝর্ণা।
যে আঁখি হাজারো স্বপ্ন বুনতে পারে মুহুর্তেই।
যে আঁখি ছলছল করে স্বপনচারিনীর বেশে আমারই দৃষ্টিনিক্ষেপের প্রতিক্ষায় থাকে।
যে আঁখি যুগলের প্রেমের স্রোতে ভেসে কাটিয়ে দেয়া যায় শত সহস্রাধিক বছর।
সে আঁখিদুটিতে কভু দুঃখের  অশ্রুজল বয়বে না।
বরং আনন্দে বিমোহিত হয়ে ছলছল চোখে দুফোঁটা ভালোবাসা গড়িয়ে দিও আমার তরে।

প্রেয়সী ,
তোমার চুল গুলো কাজল কালো,
স্নান শেষে সেই  কেশ কালো  চুল বেয়ে যেন
নিতম্ব পেরিয়ে গড়িয়ে পড়ে টুপটুপ ভালোবাসার পরশ।

ঠিক তখনই আমি মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ হই,
হয়ে উঠি উন্মত্ত প্রেমিক!!

তোমার তুলতুলে গালের নিম্নবর্গে কুচকালো তিল,
মধ্যভাগে টোল,
আহা... এ যেন আড়চোখে তাকানোর মত বদভ্যাস তৈরির মূল,
বারবার কারণে অকারণে করে বসি ভুল।

প্রেয়সীর লাল ঠোঁটের মিহি আবরণ
আর লম্বাটে সরু নাক,
দর্শনে নিমিষেই যেন হারাই বাক, মনে লাগে তাক।

প্রেয়সীর খোঁপা!
এ যেন জীবন্ত এক বেলীফুলের কানন।
আঁচলে তাহার চাপার গন্ধ,
ললাটে তাহার কালো টিপ,
পরনে লাল পাড়ের সাদা শাড়ীতে লাগছে বেশ,
প্রেয়সীর অবয়বের তারিফ জন্ম জন্মান্তরের, একদম অনিঃশেষ!  

প্রিয় ভালোবাসা

প্রিয় ভালোবাসা!
আমি আজো প্রতিক্ষার প্রহর গুণি
তোমায় পাবার।
তুমি এসো, বরং চলেই এসো
হাতছানি দিয়ে তোমায় আমৃত্যু আগলে রাখবো।

আমি নীলাকাশকে কথা দিয়েছি
তুমি আসলেই তার বুকে রঙিন স্বপ্ন বুনবো,
দু'জনেই তৈরি করব স্বপ্নের নিখুঁত নকশিকাঁথা।
আমাদের সব নীল দুঃখ সপে দিব
নীলাকাশের নীলিমায়।

নীলাকাশও আমায় কথা দিয়েছে,
আমার সমস্ত আবেদন সাদরে গ্রহণ করবে,
রাত্রি হলে সে নীল থেকে হবে তিমিরাচ্ছন্ন।
তাতে মিটিমিটি তারকারা হেসে তোমায় অভ্যর্থনা জানাবে।
ঠিক তক্ষণি উঁকি দিবে এক চিলতে চাঁদের হাসি,
জ্যোৎস্নায় ভরিয়ে দিবে তোমার সর্বাঙ্গ।

প্রিয় ভালোবাসা!
বসন্ত ভোরে শরতের সমীরণ হয়ে তুমি এসো,
নয়ত বা হেমন্তের গাঙচিল হয়ে,
আমি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিব তোমাকে।

বসন্তের কোকিল আজো কুহু ধ্বনি দিয়ে যায়
তুমি আসবে বলে,
প্রজাপতিরা ফুলে ফুলে বিচরণ করে
তোমার প্রতিক্ষায়,
ভ্রমর  মধু সংগ্রহ অভ্যাহত রেখেছে
তোমার আগমনী বার্তা শোনার অপেক্ষায়।

জানো, তুমি আসবে বলে
নদী তার কল্লোলে বয়ে চলে,
জোনাকিরা আলো দেয়,
ঝর্ণা শুকিয়ে যায় না,
অঝরে ঝরে পড়ে স্রোতধারা।

তাই প্রণয়ী প্রিয়দর্শনী
তুমি এসো বরং চলেই এসো,
তোমায় সাদরে আমন্ত্রণ তৃষিত
এ প্রণয় কোঠরে।

উপেক্ষিত প্রেম

মনের মাঝে যারে দিলাম ঠাঁই
তারে কি ভোলা যায়?
শত অবহেলার পরেও তারে
মন যে খুঁজে বেড়ায়।

ভালো বাসুক কিংবা নাইবা বাসুক
তাতে কি আসে যায়!
আমি তো তারে মনে লালন করে
স্বর্গসুখ খুঁজে পাই।

যতই বলি মনরে।।
তুই থেকে যা নিজের মাঝে,
কিন্তু কার কথা কে শুনে!
অবুঝ মন উদাসীন হয়ে
খুঁজে তারে সকাল সাঁঝে।

অবুঝ মনকে দিয়ে বুঝ বলি,
নেমেছিস ভুল ইস্টিশনে,
যারে তুই দিলি ঠাঁই মনে,
তার মনে বসত গড়েছে অন্যজনে।

ফুলের বদলে কাটা দিয়ে যেজন
রং বদলাতে পারে,
মুখোশের আড়ালে ছদ্মবেশীরে
মন খুঁজে ফিরে বারেবারে।

কালিমা মাখা মনে তার
হলো না মোর ঠাঁই,
তবুও মোর অবুঝ মন তারে
বিশ্বাসে খুঁজে বেড়ায়।

Post a Comment

0 Comments